Published : 24 May 2026, 07:54 PM
দেশের বন্ধ পড়ে থাকা শিল্প কারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করতে ৬০০০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানিকে উৎসাহিত করা, বেসরকারি খাতের উন্নতি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই তহবিলের মধ্যে ৪১০০০ কোটি টাকা বিশেষভাবে বন্ধ কারখানাগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরায় চালু করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯০০০ কোটি টাকা প্রদান করবে। গতকাল শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, বড় শিল্পগুলোর জন্য ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সুদের হার সামান্য বেশি হতে পারে। এই তহবিল থেকে বৃহৎ শিল্প, কুটির শিল্প, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। এই প্যাকেজের মাধ্যমে ২৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এই উদ্যোগের ফলে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হওয়ার পাশাপাশি নতুন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হবে, সারাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে পাঠিয়ে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, পরিবেশ-বান্ধব বিনিয়োগ ও প্রকল্প সম্প্রসারিত হবে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে এবং সৃজনশীল অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিচয় প্রকাশ না করে সম্প্রতি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, “যেসব প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার কারণে একসময় সচল থাকা সত্ত্বেও সংকটে পড়েছে, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবে।
” তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে এবং যাদের নিশ্চিত ক্রয়াদেশ আছে, তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যাংক থেকে বন্ধ ও আংশিক চালু হওয়া কারখানাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করেছে। কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত ১,২০০টির বেশি শিল্প ইউনিটকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বড় ঋণগ্রহীতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উভয়ই রয়েছেন।।
এডিবি’র ১৪০ কোটি ডলার সহায়তা: বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত