Published : 29 May 2026, 01:40 AM
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে মালদ্বীপের নারী ফুটবল দল এক বিশাল অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে হেরে অষ্টম সাফ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, তবে এই ম্যাচটি ছিল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধ। মালদ্বীপ জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার সাবাহ মোহামেদ ইব্রাহিম যখন কোচের দায়িত্ব নেন, তখন হাতে সময় ছিল খুবই কম। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মালদ্বীপের কোচ তাঁর খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়েরা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে।’ মাত্র ২৮ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এই টুর্নামেন্টে আসা তাঁর জন্য ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। কোচের কণ্ঠে অসহায়তা ঝরে পড়ে, ‘আমি আগে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ছিলাম, কিন্তু হঠাৎ এফএ আমাকে এই দায়িত্ব দেয়। ভারত ও বাংলাদেশের মতো পেশাদারিত্ব আমাদের নেই, আমাদের কোনো পেশাদার লিগও নেই। মালদ্বীপের মেয়েরা মূলত ফুটসাল খেলে, বিশেষ কোনো টুর্নামেন্ট হলেই তারা জাতীয় দলে আসে।’ আরও পড়ুনমালদ্বীপের আরও গোল না হওয়ায় বাটলারের বিরক্তি ও কড়া বার্তা ৩১ মিনিট আগে।
মুম্বাই বিমানবন্দরে দলের অর্ধেক খেলোয়াড় প্রশাসনিক জটিলতা ও টিকিটের সমস্যায় আটকে পড়েছিলেন, যা ছিল এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। সাবাহ সেই ভয়াবহ সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমাদের কিছু লাগেজ হারিয়ে গিয়েছিল... টিকিট সমস্যার কারণে অর্ধেক দল মুম্বাই থেকে পরে আসে। হাতে বিশ্রামের জন্য ২৪ ঘন্টাও সময় ছিল না। গোলরক্ষক ছাড়াই ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামা ছিল বড় ধাক্কা।’ ভারতের কাছে ১১-০ গোলে হারার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া স্বাভাবিক, কিন্তু কোচ তাঁর মেয়েদের লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখতে শিখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েদের বলেছিলাম, গোল হজম করার পরেও যেন তারা ভেঙে না পড়ে। একটা গোল খাওয়ার পর লক্ষ্য ছিল, দ্বিতীয় গোলটা যেন কোনোভাবেই না খায়।’ তাঁর কৌশল ছিল স্পষ্ট, ‘আমাদের ডিফেন্ডিং শুরু হয় স্ট্রাইকার থেকে। সেন্টার ব্যাক যদি বল নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে স্ট্রাইকারই প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে তাকে আটকাতে হবে।
’ আরও পড়ুনমালদ্বীপের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয়, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১ ঘণ্টা আগে। প্রতিবেশী দেশগুলোর উন্নতির দিকে তাকিয়ে কোচের মুখে আক্ষেপের সুর, ‘ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, ইউরোপে ক্যাম্প করছে। এমনকি ভুটানও অনেক উন্নতি করেছে।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফুটবল উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, রাতারাতি সাফল্য আশা করা যায় না। ‘আমি দুঃখিত, কিন্তু এটাই আমাদের বাস্তব চিত্র,’ যোগ করেন তিনি। প্রস্তুতিহীনতার মাঝেও মেয়েদের লড়াইয়ে মুগ্ধ মালদ্বীপের কোচ বলেন, ‘তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেছে। তারা এত ভালো খেলেছে যে আমি নিজেই অবাক হয়ে গেছি।’।
আমিন বাজারের চামড়া হাটে বাণিজ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: সিন্ডিকেটबाजोंকে কঠোর সতর্কবার্তা