Published : 08 Jun 2026, 03:02 PM
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে নারী ও শিশুদের ১০ জনকে ৬৯ ঘণ্টা পর সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এই ঘটনাটি একটি 'পুশ ইন' চেষ্টার ফল। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে সীমান্ত নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে বিএসএফ ওই ১০ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডের দিকে নিয়ে যায়। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ এই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর থেকে তারা রোদ বা বজ্রবৃষ্টির মধ্যে শূন্যরেখার একটি সরু আলে অবস্থান করছিলেন, যা তাদের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। এই ৬৯ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোনো দেশই তাদের নিজ নিজ সীমান্তে প্রবেশ করতে দেয়নি। বৃষ্টির জল জমে থাকা সেই সরু আলে অবস্থানকারীদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এই পুশ ইন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী এবং তিনটি শিশু ছিল।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার দুপুর ১২টা ৩০টায় বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বাংলাদেশের নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এবং ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার বিজিবির বড়বাড়ি বিওপি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়েও বৈঠক হয়, কিন্তু দুই ধাপে কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। রোদ-বৃষ্টিতে প্রায় আড়াই দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ওই ১০ জন অবশেষে স্বস্তি পেলেন। ২১ ঘণ্টা আগে হাড়িভাসা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সময় বৃষ্টিতে ভিজে নারী-শিশুসহ ওই ১০ জন শূন্যরেখায় ছিলেন। পরে রাত আড়াইটার পর হালকা বৃষ্টি থামলে বিএসএফ সদস্যরা এসে তাদের ভারতীয় দিকে নিয়ে যায়। তিন দিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে ওখানে থাকা বাচ্চা আর নারীদের কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগছিল। বাড়িতে খেতে বসলেই ওই বাচ্চাদের চেহারা চোখে ভাসে।
ঠিকমতো খেতে পারছিলাম না। নিয়ে যাওয়াটা ভালোই হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষও স্বস্তি পেয়েছে।’ আজ সোমবার সকালে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, গতকাল রাত ২টা ৪০ মিনিটে বিএসএফ তাদের নিরাপত্তা আলো বন্ধ করে শূন্যরেখায় থাকা নারী, শিশুসহ ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে। সীমান্তে পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি কঠোরভাবে অব্যাহত রয়েছে।।