Published : 09 Jun 2026, 12:02 PM
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে নির্মিত দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত 'স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার'-এর এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পর্দা উন্মোচন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সমুদ্র সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এই কেন্দ্রটি বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী ওশান ও আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। পূর্বে বিদেশি সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করে পূর্বাভাস পেতে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগত, কিন্তু এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হলে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ সম্ভব হবে।
এই অত্যাধুনিক স্টেশনটি সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও মেঘের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের নির্ভুল সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম। এছাড়াও, এটি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার উপযোগী অঞ্চল চিহ্নিত করতে এবং সমুদ্রের লবণাক্ততা ও তাপমাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানেও সহায়তা করবে। এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের 'সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি'-র যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে, যেখানে চীনা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ কোটি টাকার কারিগরি ও যান্ত্রিক সহায়তা প্রদান করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ মেরিন ডেটা হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে দ্বিতীয় একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান অনুষদে এই স্টেশনের নির্মাণকাজের সূচনা করা হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং এবং সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. ফু বিন উপস্থিত ছিলেন।।
একনেকের অধীনে ৩ হাজার ৮৯০ কোটিরও বেশি মূল্যের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেল অনুমোদন