Published : 09 Jun 2026, 02:02 PM
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর থেকে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা তীব্র হয়েছে। গত সাত দিনে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে প্রায় ৪,২৪০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই আকস্মিক উত্তোলনের ফলে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার সূচক, অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) পজিটিভ অবস্থা থেকে নেগেটিভ পর্যায়ে নেমে গেছে। সিআরআর বা নগদ সংরক্ষণ হার হলো সেই অর্থ যা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নগদ হিসেবে জমা রাখতে বাধ্য থাকে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর জন্য গড়ে ৪ শতাংশ সিআরআর বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। ইসলামী ব্যাংকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা টিবিএসকে জানিয়েছেন, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার আগে ব্যাংকের সিআরআর নির্ধারিত চাহিদার চেয়ে বেশি ছিল।
কিন্তু গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এই হার নেগেটিভে চলে এসেছে। তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংকের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার চাহিদার তুলনায় তারা এই পরিমাণ অর্থ রাখতে সক্ষম ছিল। তবে বর্তমান সংকটের কারণে তা কমে ২,৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। যদিও তাদের কারেন্ট অ্যাকাউন্টের তহবিল এখনও ইতিবাচক রয়েছে। সিআরআর ঘাটতিতে পড়ে তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার জরুরি অর্থ সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি তৈরি হয় গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে।
এর আগে, ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তিনি আন্দোলনের মুখে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। খুরশীদ আলমের নিয়োগের পর থেকে 'ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম' টানা নয় দিনের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। আজ মঙ্গলবারও (৯ জুন) ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নারী-পুরুষ গ্রাহক অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।।
একনেকের অধীনে ৩ হাজার ৮৯০ কোটিরও বেশি মূল্যের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেল অনুমোদন