Published : 15 Jun 2026, 11:17 AM
ভারতে বর্তমানে বহু বাংলাদেশি নাগরিক চরম সংকটের মুখে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিভিন্ন 'হোল্ডিং সেন্টার' বা আটককেন্দ্রে আটকে রেখেছে। এর মধ্যে কিছু মানুষ আটকে থাকার শিকার হচ্ছেন ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী অঞ্চল, অর্থাৎ 'নো ম্যানস ল্যান্ডে'। পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, বসিরহাটের বিথারী-হাকিমপুর পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৮২ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগর এলাকার তিনটি 'হোল্ডিং সেন্টারে' মোট ৪৭১ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে আটকে রাখা হয়েছে। এই আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই সমাজের নিম্ন স্তরের শ্রমজীবী মানুষ।
অভিযোগ, অভাব বা ভালো কাজের আশায় বহু মানুষ দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন। অনুপ্রবেশের পর তারা কেবল পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকেননি, কাজের সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগরের এই তিনটি কেন্দ্রে থাকা ৪৭১ জনের নাম, পরিচয় ও নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার কাজ চলছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আধিকারিকরা আটক ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিএসএফ সূত্র দাবি করেছে যে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না। যদিও আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়, প্রশাসন শিশু, নারী ও পুরুষদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে দেশে ফেরার আগে তাদের কোনো শারীরিক বা মানসিক কষ্ট না হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আটককেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসের ২০২৬-এ কেন্দ্রীয় স্তরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ নজর দিয়েছে এবং কথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত বেড়া দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে বিএসএফ জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকে উগ্রপন্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার কথিত অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে নিজের আপসহীন অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।।
ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল