Published : 22 Jun 2026, 01:37 AM
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের সরকারি পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা হ্রাস করে এবং বিনিয়োগের গতিকে মন্থর করতে পারে, এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। আজ শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সিএ ভবনে অনুষ্ঠিত 'প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এর উপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভাবনা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আইসিএবি নেতারা এই মন্তব্য করেন। আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন স্পষ্ট করেন যে, সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাত উন্নয়নে অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সমন্বিত সংস্কার এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সীমিত হতে পারে এবং বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আইসিএবি কর ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ওপর সরকারের গুরুত্বারোপকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তারা জানায়, তাদের দেওয়া একাধিক প্রাক-বাজেট সুপারিশ এই অর্থবিলে প্রতিফলিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম কর বিধান বিলোপ, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করহার নির্ধারণ, নিবন্ধিত স্টার্টআপদের জন্য কর প্রণোদনা, কর ফেরতের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং কর আপিলের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক জমার পরিমাণ কমানো। আইসিএবি মনে করে এই পদক্ষেপগুলো ব্যবসা পরিচালনা সহজ করে এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়াও, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি, স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের ভ্যাট ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং কাস্টমস আইনে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের বিধান অন্তর্ভুক্ত করাকেও তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে। তবে আইসিএবি কিছু বিষয়ে সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, উৎপাদক, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রয়ের ওপর ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আদায়ের বিধান মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।
একই সাথে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা ক্ষুদ্র ও উদীয়মান ব্যবসার জন্য বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আইসিএবি কর নির্ধারণ, আপিল ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমে অনলাইন শুনানি চালু, কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিরীক্ষা জোরদার করার সুপারিশ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এন কে এ মবিন আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আইসিএবির যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সংবাদ সম্মেলনে আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং কাউন্সিল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।।
দেশের ভাগ্য নির্ধারণে তরুণরাই মূল চালিকাশক্তি: মির্জা ফখরুলের বার্তা