Published : 24 Jun 2026, 08:53 PM
হিজরি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণভাবে চন্দ্রচক্রের ঘূর্ণনের ওপর নির্ভরশীল। আকাশে নতুন চাঁদের উদয় মানে একটি হিজরি মাসের সমাপ্তি এবং নতুন মাসের শুভ আগমন। ইসলাম ধর্মে নতুন চাঁদ দেখা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও কল্যাণ প্রার্থনা করার এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আকাশে নতুন চাঁদ দেখলে তাঁর উম্মতকে নিয়ে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন। যখনই তিনি নতুন চাঁদ নিতেন, তখনই তিনি পাঠ করতেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।” এর অর্থ হলো: আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ, তুমি এই নতুন চাঁদকে আমাদের ওপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে উদিত করো। আর তুমি যা ভালোবাসো ও পছন্দ করো, তার তাওফিক (সফলতা) দান করো। (হে চাঁদ!) আমাদের এবং তোমার রব হলো আল্লাহ।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৫১) এই দোয়াটি পাঠ করা চাঁদ দেখার সময় মোস্তাহাব বা অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি আমল, যা মানুষের মনকে প্রকৃতির নিদর্শনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। (ইমাম ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতাওয়া, ২৪/৪৪৭, মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি) এই প্রার্থনার মাধ্যমে নবীজি (সা.) মাত্র কয়েকটি শব্দের মধ্যে সুন্দর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান যুক্ত করে দিয়েছেন: ১. বরকত ও কল্যাণ: দোয়ার শুরুতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয় যেন আগত মাসটি আমাদের জীবনে সমৃদ্ধি, বরকত ও কল্যাণ নিয়ে আসে। তা হতে পারে জীবিকা, সময় বা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। ২. ইমানের দৃঢ়তা: মানুষের ঈমান সবসময় স্থির থাকে না, তা ওঠানামা করে। নতুন মাসের শুরুতে মুমিন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেন এই নতুন দিনগুলোতে তার ঈমানি শক্তি আরও মজবুত ও সুদৃঢ় হয়। ইসলামে ধ্যান বা মনোযোগের কার্যকর ৫টি পদ্ধতি: ১. নিরাপত্তা ও শান্তি: পার্থিব জীবনে নানা বিপদ, রোগ-ব্যাধি ও দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য আল্লাহর দেওয়া ‘সালামত’ বা নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ২. ইসলামের ওপর অবিচলতা: কেবল মুখে মুসলিম দাবি করাই যথেষ্ট নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের বিধান ও বিধি-নিষেধ মেনে চলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ৩. তাওহিদের ঘোষণা: দোয়ার শেষ অংশটি অত্যন্ত চমৎকার ও ঈর্ষণীয়—‘আমার ও তোমার প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ’। এর মাধ্যমে মুমিন চাঁদের দিকে তাকিয়ে বিশ্বজগতের স্রষ্টাকে স্মরণ করে।
প্রাচীনকালে অনেক জাতি চাঁদ ও সূর্যের পূজা করত। কিন্তু একজন মুসলমান চাঁদের দিকে তাকিয়ে ঘোষণা করে যে, হে চাঁদ, তুমিও আল্লাহর এক সাধারণ সৃষ্টি, তোমার নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। তোমার স্রষ্টা যিনি, আমার স্রষ্টাও তিনি। নবী (সা.) চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৯) আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় আমরা অনেকেই হিজরি মাসের হিসাব বা প্রতি মাসের শুরুতে নতুন চাঁদ অনুসন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি না। মনে রাখতে হবে, হিজরি মাসের হিসাব রাখা এবং প্রতি মাসের শুরুতে নতুন চাঁদ অনুসন্ধান করা একটি সুন্নাহ ইবাদত।।
কোটি কোটি টাকার পেছনে ছুটল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ