Published : 09 Jul 2026, 03:44 AM
বিশ্ববাজারে সার ও জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য দুটি প্রকল্পে ১.১ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে উল্লেখ করেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্বের সীমাবদ্ধতার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "এই প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরিবার ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা অব্যাহত রাখতে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।" এই সহায়তার অধীনে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের 'খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা' প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থায়ন করা হবে। এর ফলে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবর আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
যেহেতু দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, তাই এই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংক ৬ লক্ষ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে অর্থায়ন করবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। এর মাধ্যমে প্রায় ১৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ করা ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা পাবে। বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, "বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আমন ও বোরো মৌসুমের ধানের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষি খাতে নিয়োজিত। তাই সার সরবরাহে কোনো বাধা এলে তা কেবল খাদ্য নিরাপত্তাকেই নয়, দারিদ্র্য এবং কর্মসংস্থানকেও ঝুঁকিতে ফেলবে।" এছাড়াও, দ্রুত অর্থ প্রদানের জন্য ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের 'জরুরি প্রতিক্রিয়া কনটিনজেন্ট' প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এই সহায়তা সংকটকালে আয় স্থিতিশীল রাখতে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। একই সাথে, এই প্রকল্পের অধীনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ জরুরি পরিষেবাগুলোও অর্থায়ন করা হবে।
এই অর্থ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পানির মতো অপরিহার্য সেবাগুলো নিশ্চিত করবে। এই প্রকল্পের অর্থ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, "বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক তহবিল পাওয়ার সুযোগ দেবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে সম্পদ বরাদ্দ করা হবে। এর ফলে আকস্মিক ধাক্কার প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে।"।
সরকারি উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: নতুন নির্দেশিকা জারি