Published : 09 Jul 2026, 03:48 AM
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এই উন্নয়নকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে বাংলাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, তবে এই বিষয়ে ঢাকা এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণ করেনি। শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, 'আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি, কিন্তু এখনো কোনো পক্ষ নিইনি।' করিডোর প্রস্তাবের পেছনে সরকারের প্রধান আগ্রহের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পরিবহন খরচ হ্রাস করা।
চীন সফর থেকে বাংলাদেশ কী লাভ করল—এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কোনো সাহায্য ভিক্ষা করে আসিনি। এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের অভিমুখ ঠিক করার জন্য। যদি এই লক্ষ্য পূরণ হয়, তবে অন্যান্য সুবিধাগুলো ভবিষ্যতে আসবে। এই বিষয়ে একটু আত্মমর্যাদা বজায় রাখা উচিত এবং এমন বিব্রতকর প্রশ্ন করা ঠিক নয়।' তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান জানান, এই বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
' দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করতে একমত। তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং খুব সীমিত সংখ্যক দেশের সঙ্গে এই স্তরের অংশীদারিত্ব বজায় রাখে। তিনি বলেন, এশিয়ায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এমন সম্পর্ক রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।।