Published : 09 Jul 2026, 07:57 AM
প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার এক বিশাল সংস্কার কর্মসূচির সূচনা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন পাঠ্যক্রম, সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ এবং বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শেখার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণ করা এবং মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার একটি সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সংশোধিত পাঠ্যক্রম, শিক্ষক উন্নয়ন নীতিমালা এবং বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা।
" তিনি আরও জানান, গত চার মাস ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিকায়নের অধীনে চলমান 'দৃষ্টিনন্দন' প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামোগত দুর্বলতাগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, "শিক্ষার্থীদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তাদের শেখার অগ্রগতি যাচাই করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ভালো করলেও, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "বর্তমান পাঠ্যক্রমকে আরও সহজ, কার্যকর এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করে নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে। একই সাথে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি), কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (কেপিআই), তদারকি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
" প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অংশ হিসেবে ভিডিও পাঠ, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্ল্যাট প্যানেল, তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে পুনরায় শেখানোর ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও তিনি প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী উপসংহারে বলেন, "সরকারের উদ্দেশ্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; বরং শিক্ষার গুণগত মানকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করা। এর জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন, প্রযুক্তি এবং পাঠ্যক্রম—সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" এই সময় প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আবদুল আজিজ, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত