Published : 09 Jul 2026, 04:43 AM
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ এশিয়ান পরাশক্তি জাপান ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে। যদিও জাপানকে 'আন্ডারডগ' হিসেবে দেখা হয়, তবুও সামুরাই ব্লু দলের শক্তিকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে যে চমক তারা দেখিয়েছে, তা প্রমাণ করে যে যেকোনো পরাশক্তির জন্য জাপান এখন এক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী। পরিসংখ্যান ও ইতিহাসের পথরেখা এই উত্থানের কথাই বলে। বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে জাপান ১৭তম স্থানে থাকলেও, একসময় তারা ছিল নবম স্থানে, যা তাদের ইতিহাসের সেরা অবস্থান। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেই স্মরণীয় ম্যাচ, যেখানে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান, ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও অমলিন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে ২-১ গোলে পরাজিত করে তারা বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল। চলমান ফিফা বিশ্বকাপে জাপান তাদের সেই 'জায়ান্ট-কিলিং' রূপ বজায় রেখেছে।
নেদারল্যান্ডসের মতো ফেভারিট দলের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করা তাদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক ফল। তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া এবং সুইডেনের সঙ্গে ১-১ ড্র করে রাউন্ড অব ৩২-এ ওঠার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। আজকের এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে পরীক্ষা করার জন্য জাপানের চার তারকা—ফুসা কুবো, রিৎসু দোয়ান, জুনিয়া ইতো এবং দাইচি কামাদা—বিশেষ মনোযোগের দাবিদার। এদের যেকোনো একজনের পারফরম্যান্স যদি সেরা হয়, তবে সে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে চাপে ফেলতে সক্ষম হতে পারে। বিশেষত কুবোর গতি এবং দোয়ানের গোল করার ক্ষমতা জাপানের প্রধান অস্ত্র। অন্যদিকে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াডে বেশ কিছু স্পষ্ট দুর্বলতা চোখে পড়েছে, যা জাপান কাজে লাগাতে পারে। প্রথমত, ব্রাজিলের রক্ষণ থেকে আক্রমণে ফেরার গতিতে কিছুটা ধীরতা দেখা গেছে। তাদের ফুলব্যাকরা যখন আক্রমণে উঠে যায়, তখন পেছনে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়।
জাপান যদি তাদের পরিচিত দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের কৌশল প্রয়োগ করতে পারে, তবে ব্রাজিলের এই অরক্ষিত প্রতিরক্ষা ভেঙে ফেলা সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, ব্রাজিলের মাঝমাঠের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট। মাঝমাঠ থেকে বলের প্রবাহ আটকে দিয়ে ব্রাজিলের উইঙ্গারদের ওপর উচ্চ চাপ বজায় রাখতে পারলে তাদের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করা সম্ভব। এছাড়া, সেট-পিস (কর্নার বা ফ্রি-কিক) ডিফেন্ড করার ক্ষেত্রে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারদের কিছুটা অমনোযোগিতা এবং পজিশনিংয়ের ভুল ধরা পড়েছে, যেখানে জাপান বেশ কার্যকর হতে পারে। সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, ব্রাজিলের 'প্ল্যান-বি' বা বিকল্প কৌশলের অভাব। যদি ম্যাচ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী না চলে বা শুরুতে গোল খেয়ে বসে, তবে দ্রুত কৌশল পরিবর্তন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে দলটিকে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা যায়। আজকের ম্যাচে যদি জাপান এই কৌশলগুলো সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারে এবং প্রথম ধাক্কা দিতে পারে, তবে আরও একটি বড় বিস্ময় দেখা যেতে পারে। লেখক - কর্মকর্তা, ভূমি মন্ত্রণালয়।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের ডাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর