Published : 09 Jul 2026, 05:07 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এই রায়ের ফলে তাঁর নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করে। এই মামলার শুনানির জন্য পূর্বে ৩০ জুন তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির জামায়াতীর পক্ষে এবং আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী জামায়াতের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। ঋণখেলাপির অভিযোগের কারণে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এছাড়াও, জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন, যার ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে তাঁর ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের এই আদেশের কারণে তাঁর ফলাফল জনসমক্ষে আনা হয়নি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী প্রার্থী বাতিল হওয়ায়, এই আসনে পুনরায় নির্বাচন হবে নাকি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে—এই প্রশ্ন উত্থাপন করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেছেন যে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে এর পরিণতি সম্পর্কে বলা উচিত নয়। তিনি বলেন, "আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যে ব্যক্তি প্রতিনিধি নির্বাচিত হন, একটি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তাঁর ক্ষেত্রে জনগণের মতামত পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
আমি আশা করি, জনগণ আবার তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।" সকালে আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, "এই রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরী যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তা আপাতদৃষ্টিতে আর বৈধ রইল না। আদালত যেহেতু সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছেন, এর কিছু সম্ভাব্য পরিণতিমূলক আদেশ থাকতে পারে। আদালত বলেছে, পূর্ণাঙ্গ রায়ে বাকি বিষয়গুলো আসবে। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। আসলাম চৌধুরীর আইনজীবীরা হয়তো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।"।