Published : 09 Jul 2026, 05:37 AM
চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন한 মির্জা তানজিম শরীফ মুগ্ধ, এখন এক নতুন পরিচয়ে সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গান দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করা সেই মুগ্ধ এবার প্রশাসনিক জগতে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন। ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। মেধাতালিকায় দেশের প্রথম ৫০ জনের মধ্যে স্থান করে নিয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশ পাওয়া এই তরুণ প্রতিভা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এই সুখবরটি প্রকাশ করে মুগ্ধ জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ৪৭তম বিসিএস, প্রশাসন ক্যাডার। মেধাক্রমে দেশের প্রথম ৫০-এর মধ্যে স্থান করে নিয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্তির সুসংবাদ জানাই সবাইকে।’ একইসঙ্গে তিনি এই সাফল্যের পেছনে যে দীর্ঘ সংগ্রাম ও পথচলা ছিল, তার কথাও উল্লেখ করেন। ২০১৯ সাল থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত মুগ্ধ বলেন, ‘অগণিত দায়িত্বের চাপ, অসংখ্য সংশয় ও দ্বিধা। তবুও অজস্র প্রশ্নোত্তরের সন্ধানে, ৪৭তম বিসিএস এবং সমুদ্র পাড়ি দেওয়া বান্দার শ্রমের প্রতিদান যিনি দিয়েছেন, সেই মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া।
’ মুগ্ধ আরও যোগ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় আমাকে যে আত্মতৃপ্তি দিয়েছে, বিসিএসের এই সাফল্যের আনন্দের মধ্যেও সেই অনুভূতির মূল্য কমে যায়নি।’ মুগ্ধের এই সাফল্য কেবল আজকের নয়; স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ–৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে বুয়েট থেকে প্রকৌশল শিক্ষায়ও তাঁর উজ্জ্বল স্বাক্ষর থাকে। গানের পাশাপাশি গণিত শাস্ত্রেও তিনি সমান উজ্জ্বল ছিলেন। ২০১২ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ৫৩তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ‘অনারেবল মেনশন’ অর্জন করেন এবং জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১০ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেন। শুধু সংগীত নয়, উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা, চিত্রাঙ্কন, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জাতীয় স্তরে পুরস্কার জিতেছেন। বুয়েটে ভর্তি হওয়ার আগেই তাঁর ঝুলিতে ছিল ২৯টি জাতীয় পুরস্কার।
খেলাধুলাতেও তিনি সফল; ২০০৮ সালে আন্তস্কুল টেবিল টেনিস ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ময়মনসিংহের চড়পাড়ায় জন্ম নেওয়া মুগ্ধর বাবা ইসকান্দর মির্জা কলেজশিক্ষক এবং মা তাহমিনা বেগম স্বাস্থ্য পরিদর্শক। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর যমজ এক ভাইও রয়েছেন। গান, গণিত, উচ্চশিক্ষা কিংবা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন মির্জা তানজিম শরীফ মুগ্ধ। সেরাকণ্ঠের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া তাঁর আলোচিত পথচলা এবার প্রশাসন ক্যাডারে। নতুন দায়িত্বে সততা ও দায়িত্বশীলতার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি জীবনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছেন।।
আইনি বাধা অতিক্রম করে শপথ নিলেন সরোয়ার আলমগীর; চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য