Published : 09 Jul 2026, 05:51 AM
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংলিশ খেলোয়াড়েরা এক সারিতে দাঁড়িয়ে দর্শকদের সঙ্গে গান গেয়ে হাসলেন। সবার মুখে ছিল আনন্দের ছাপ। এই ম্যাচের আসল কাহিনি লিখছেন তিনিই, হ্যারি কেইন। তাঁর মুখে যে হাসি, তা কেবল আনন্দের নয়; যেন বহুক্ষণ ধরে জমে থাকা অস্থিরতা এক মুহূর্তে মুক্তি পেল। এই ম্যাচের গল্পটি আসলে তিনিই রচনা করেছেন—৮৬ মিনিটে ইংল্যান্ডকে জেতানো গোলটি, অথবা ৭৫ মিনিটে সমতা ফেরানো গোলটি। স্কোরবোর্ড: ইংল্যান্ড ২-১ ডিআর কঙ্গো। কিন্তু শুরুটা ছিল অন্যরকম। আটলান্টা স্টেডিয়ামে সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেঙে যায়। ডান দিক থেকে লম্বা পাস, ইওয়ান উইসার লাফ, জেড স্পেন্সের ভুল অবস্থান—সব মিলিয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গার শট। জর্ডান পিকফোর্ডের নিকট পোস্ট ভেদ করে বল জালে, ইংল্যান্ড ০-১ কঙ্গো। ডেকলান রাইস তখন ক্ষোভে নিজের ডিফেন্ডারদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, চোখে ছিল অবিশ্বাস।
ইংল্যান্ড ধীরে ধীরে ফিরে আসে, কিন্তু তা ছিল ছন্দহীন তাড়াহুড়োর। জুড বেলিংহামের হেডে, মার্কাস রাশফোর্ডের শটে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। লিওনেল এমপাসি একের পর এক সেভ করে একা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিরতির সময় টমাস টুখেলের মুখ স্পষ্ট করে দিচ্ছিল, এই অর্ধবিরতির আলোচনাই হতে চলেছে তাঁর কোচিং জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়—হারলেই বিদায়, আর হয়তো চাকরিও। কিছু একটা নিশ্চয়ই বলা হয়েছে, এবং তার ফলও এসেছে। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড নিজেদের খুঁজে নেয়। ৬১ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নামা যেন গল্পের নতুন চরিত্রের আগমন। ৭৫ মিনিটে অবশেষে সমতা। ডান দিক থেকে ডেকলান রাইসের ক্রস, বাঁ দিক থেকে গর্ডনের নিখুঁত ডেলিভারি এবং শানসেল এমবেম্বারের কাঁধের পাশ ঘেঁষে ছয় গজ থেকে কেইনের হেডে বল—১-১। ইংল্যান্ড যেন শ্বাস ফিরে পেল। এরপর আসে সেই মুহূর্ত।
৮৬ মিনিটে বেলিংহামের দৌড়, এমপাসির সেভ, গর্ডনের লড়াই করে বল রাখা, এবং তারপর সেই পাস। কেইন বলটি নিয়ন্ত্রণ করলেন। সামান্য জায়গা তৈরি করলেন। তারপর ডান পায়ের বুলেট শট। বল জালে গেল জালের ডান দিকের ওপরের কোণে, ২-১। এই বিশ্বকাপে কেইনের পঞ্চম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তেরোটি গোল। যখন একটি দল ভেঙে পড়ার পথে, তখন কাউকে দাঁড়াতে হয়। আটলান্টায় ইংল্যান্ডের জন্য সেই মানুষটি ছিলেন হ্যারি কেইন। আরও পড়ুনকেপ ভার্দের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তন ২ ঘণ্টা আগে।
আইনি বাধা অতিক্রম করে শপথ নিলেন সরোয়ার আলমগীর; চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য