Published : 09 Jul 2026, 07:03 AM
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শনিবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়ে ৮৬ বছর বয়সী এই আধ্যাত্মিক নেতার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছে লক্ষ লক্ষ শোকাহত মানুষ। শনিবার সকালে খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আনা হয়। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো কফিনের পাশে রাখা ছিল তাঁর ১৪ মাসের নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি-র ছোট কফিন, যা ছিল সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবারই খামেনির মরদেহ তেহরানে পৌঁছেছে। এই শোকযাত্রা ও শেষকৃত্যের জন্য ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ছয় দিনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই হাজার হাজার সমর্থক গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে ভিড় করতে শুরু করেন।
কর্তৃপক্ষের অনুমান, আগামী তিন দিনে শুধুমাত্র তেহরানে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষ এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। সকাল থেকেই মোসাল্লা প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শোকাহত জনতা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল ব্যানার হাতে নিয়ে 'আমেরিকা নিপাত যাক' এবং 'প্রতিশোধ, প্রতিশোধ' স্লোগান দিতে থাকে। নেতাকে হারানোর শোকে সাধারণ ইরানিরা গভীরভাবে ব্যথিত। ২৭ বছর বয়সী এক শোকাতুর ব্যক্তি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, 'আমি আমার প্রিয় নেতা আলি খামেনিকে বিদায় জানাতে এসেছি। এমন দিন দেখতে কখনো ভাবিনি। এই ট্র্যাজেডি দেখার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো!' ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এই শোক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রকাশ্যে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নবনিযুক্ত প্রধান আহমদ ওয়াহিদি, যিনি খামেনির সাথে একই হামলায় নিহত আইআরজিসির সাবেক প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হন। ভারতের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। শেষযাত্রার সূচি নিম্নরূপ: আগামী সোমবার পর্যন্ত খামেনির কফিন তেহরানে থাকবে এবং সেখানে একটি শোকমিছিল শহর প্রদক্ষিণ করবে। মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ইরানের ধর্মীয় কেন্দ্র কোমে শহরে। বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে, আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের জন্মস্থান মাশহাদ শহরে তাঁকে দাফন করা হবে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত