Published : 09 Jul 2026, 07:52 AM
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এই মন্তব্যের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতের মিল নেই। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতসহ আরও বেশ কিছু দেশের সমর্থন ইসরায়েল লাভ করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমাদের আরও কিছু মিত্র আছে, যেমন ভারত নামের একটি ছোট দেশ। তাদের জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি, এবং তারা আমাদের অসাধারণ সমর্থন দেয়।' লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরান সংক্রান্ত শান্তি চুক্তিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন। যদিও মতভেদ বিদ্যমান, নেতানিয়াহু ভ্যান্সের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি।
নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে 'হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমর্থক' হিসেবে আখ্যা দেন। এর আগে, জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, এই চুক্তিটি কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে করা হয়েছে। তিনি ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। ভ্যান্সের মতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই 'যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থায়নে' সরবরাহ করা হয়েছে। ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের সমস্যা ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নন। তিনি মনে করেন, যদি কেউ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে মনে করে, তবে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এই ধরনের আক্রমণ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংবেদনশীল আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে অন্যান্য দেশের মতোই ইসরায়েলকেও এমন শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করতে হবে যা তাদের এবং পুরো অঞ্চলের জন্য মঙ্গলজনক।
ভ্যান্স আরও বলেন, কূটনৈতিক অগ্রগতির ঠিক পরেই সহিংসতা শুরু হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হতাশ হন। তিনি উল্লেখ করেন যে চুক্তির ক্ষেত্রে যখন বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়, ঠিক তখনই বৈরুতের একটি বেসামরিক এলাকায় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত নয় এমন অনেক মানুষ প্রাণ হারান। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয় এবং চুক্তির শর্ত উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফাই গেয়েছেন। তার দাবি, ওই অঞ্চলের খ্রিস্টান অধ্যুষিত কিছু গ্রাম ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে, কারণ ইসরায়েল তাদের হিজবুল্লাহর 'উগ্রপন্থীদের' হাত থেকে রক্ষা করছে। নেতানিয়াহু বলেন, যদি কেউ শান্তি চায়, তবে যারা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে নিজেদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা থাকতে হবে।।
অর্থ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশ: সরকারি অর্থ ব্যয়ে গাড়ি কেনা ও বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত