Published : 09 Jul 2026, 08:27 AM
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য কোমে পৌঁছেছে। এই শোকাবহ মুহূর্তে তাঁকে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ ইরানি নাগরিক। মঙ্গলবার পরিকল্পনা অনুযায়ী, শোকমিছিলে অংশ নিতে বিপুল সংখ্যক ইরানি সেখানে উপস্থিত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের দক্ষিণের এই শহরে খামেনির দেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার অবতরণ করছে। এর আগে, তেহরানে টানা তিন দিনের জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানেও অসংখ্য ইরানি সমবেত হন এবং প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় জমে যায়। দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে একত্রিত হয়েছেন। স্মরণ করা যায়, ১৯৮৯ সালে তাঁর পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় যে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল, তা আজও মনে গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে।
আল-জাজিরায় হামিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানকে বিভক্ত করা। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভাজনকে রুখে দিয়েছেন। ইরানবাসী তাঁর এই মহান অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে এখানে এসেছেন।' আরও এক শোকাহত নারী বলেন, তিনি তাঁর শহীদ নেতাকে জানাতে এসেছেন যে তাঁর রক্ত বৃথা যাবে না এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এসেছেন। জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির অন্যান্য তিন পুত্র উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনিকে দেখা যায়নি। যুদ্ধের প্রথম দিন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তিনিও আহত হন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
বাবা ও স্ত্রীর জানাজায়ও তিনি উপস্থিত হননি। তেহরান ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ এসলামি জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ না হওয়ায় মোজতবা তাঁর বাবার জানাজা ও বিদায় মিছিলে উপস্থিত হতে পারেননি। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। ইরানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মোজতবার জনসমক্ষে আসার কোনো সুযোগ নেই। আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে তাঁর জন্মশহরে তাঁকে দাফন করা হবে।।
প্রকৃতির বিধ্বংসী রূপে আহত বন্য হাতি, টেকনাফে ভূমিধসে প্রাণহানি