Published : 09 Jul 2026, 05:01 PM
সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত আসামি বাবু শেখ (৪৫) এই মামলার দায় স্বীকার করে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ চট্টগ্রামের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এই কঠিন রায় প্রদান করেন। আদালত নির্দেশ দেয় যে বিচার শুরুর মাত্র বারো কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জানা গেছে, নিহত শিশুটির বাবা একজন টমটমচালক। শিশুটি সীতাকুণ্ডের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের ইকোপার্ক এলাকায় ধর্ষণচেষ্টার পর শিশুটিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরের দিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ৩ মার্চ দুপুরে পুলিশ বাবু শেখকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। আসামির ঠিকানা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া। তিনি সীতাকুণ্ডের শিশুটির পরিবারের পাশের ঘরে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান জানান, শিশুটির বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরেই বাবু শেখ এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি শিশুটিকে ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
১ মার্চ সকালে বাবু শেখ শিশুটিকে বাড়ি থেকে বের করে আনেন এবং বাসের মাধ্যমে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে গিয়ে সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেদিন দুপুরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা সেখানে গলা কাটা অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় এবং তারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হলে ৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির মায়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়, যার তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয় এবং ২১ জুন থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।।
১৭২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি: উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত