Published : 09 Jul 2026, 07:15 PM
বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী ছেনোয়ারা বেগম এক চরম বিপদের মুখে পড়েছেন। গত বুধবার রাত ১১টার দিকে বন্যার প্রবল স্রোতে ভেসে যায় তাঁর ঘর। পানির তোড়ে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন। চোখের সামনে ঘর ভেসে যেতে দেখে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনার পর ছেনোয়ারা বেগম এবং তাঁর পরিবার এস কে বি কনভেনশন হল আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই আশ্রয়কেন্দ্রেই তাঁর অবস্থান। তাঁর স্বামী স্থানীয় বাজারে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি করেন এবং পরিবারে চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। সংসারে ছোট মেয়ে মনি আকতারকে নিয়ে থাকেন, যে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
ঘর ভেসে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বইপত্রও ভেসে যায়। ছেনোয়ারা বেগম জানান, যদিও ঘর চলে গেছে, কিন্তু তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন। তবে তিনি বলেন, সামান্য একটু ভুল হলেই পরিবারের সবাই জলের তলায় চলে যেত, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। ছেনোয়ারা বেগমের মতো আরও ৫৫টি পরিবার এই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জল কিছুটা কমায় অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু ঘর ভেসে যাওয়ায় ছেনোয়ারা বেগম এখনও আশ্রয়কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রটির দায়িত্বে রয়েছেন বৈলছড়ি ইউনিয়নের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কুহেলিকা সরকার। তিনি জানান, এখানে ৫০ থেকে ৫৫ পরিবারের অন্তত ২০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ রাতে এবং আজ শুকনো খাবার বিতরণ করেছে। স্থানীয় বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ দত্ত জানিয়েছেন, ইউনিয়নের জন্য এক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দুপুরে খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন আরও জানান, বুধবার ইউনিয়নগুলোতে সাড়ে ২৪ টন চাল পাঠানো হয়েছে এবং এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।।
১৭২ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি: উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত