Published : 11 Jul 2026, 07:15 PM
গাজীপুর সাফারি পার্কে অন্য একটি হাতির আক্রমণে মারাত্মকভাবে আহত হাতি 'রাজু বাহাদুর'-এর জীবন বাঁচানোর জন্য তার মালিক মো. আতিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এই বিপন্ন প্রাণীর চিকিৎসার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি এবং সম্প্রতি প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আতিকুর রহমানের বাসস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাট্রাই গ্রামে। বংশপরম্পরায় এই পরিবারটি হাতির লালন-পালন করে আসছে। বর্তমানে তাদের অধীনে রাজু বাহাদুরের সহ মোট পাঁচটি হাতি রয়েছে। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে এই হাতির চিকিৎসা চলছে। থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও এসেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হাতিটি এখনো স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি এবং ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। মালিকের দাবি, অন্য হাতির আক্রমণের বিষয়টি সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের নজরে রাখা উচিত ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হাতিটির মালিক আমি হলেও এটি দেশের অমূল্য সম্পদ। এই প্রাণীকে বাঁচানো অত্যন্ত জরুরি। এই পরিস্থিতিতে আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজু বাহাদুরের মা চন্দ্রতারা, যার বয়স ৪৩ বছর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করলে দেশটির বন বিভাগের হাতে তাকে আটকে রাখা হয়।
হাতিটি ফিরে পাওয়ার জন্য আতিকুর রহমান ভারতে মামলা লড়ছেন। চন্দ্রতারার আরও দুটি মেয়ে হাতি রয়েছে—ফুলসুন্দরী এবং সুন্দরমালা, আর একটি হলো রংমালা। হাতির লালন-পালনের ক্ষেত্রে বন বিভাগের নিবন্ধন রয়েছে আতিকুরের নামে। ১ জুলাই প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে পাঠানো আবেদনে আতিকুর রহমান 'রাজু বাহাদুর' হাতির জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাতিটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা। লালনপালনে যে বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তিনি। বন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে 'রাজু বাহাদুর' নামের হাতিটিকে উদ্ধার করে। এই হাতিটি রাস্তায় ও বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। খবর পেয়ে বন বিভাগ তাকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কের হাতিশালায় স্থান দেয়। হাতিটির বয়স প্রায় বারো বছর। সাফারি পার্কের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে হাতিশালায় অন্য একটি হাতির আক্রমণে রাজু বাহাদুরের শরীর আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং একটি পা ভেঙে যায়। এই ঘটনার পর একটি ক্রেন ব্যবহার করে হাতিটিকে তুলে বালুর ঢিবির ওপর রাখা হয়।
দেশের একাধিক চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকও আনা হয়। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান মুঠোফোনে জানান, পার্কে মোট দশটি হাতি রয়েছে, যার মধ্যে চারটি পুরুষ হাতি সবসময় শিকলবন্দী থাকে এবং স্ত্রী হাতিরা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। তারা প্রায়ই পুরুষদের কাছাকাছি থাকে। এই ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা সম্ভব ছিল না। তবে দুর্ঘটনার পরপরই মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসা শুরু করে। তিনি নিশ্চিত করেন যে চিকিৎসার জন্য হাতিটিকে দুইবার ক্রেন দিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হাতিদের তুলনায় সে খাবার কম খাচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসা এবং থাইল্যান্ডের চিকিৎসকদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।।
প্রকৃতির বিধ্বংসী রূপে আহত বন্য হাতি, টেকনাফে ভূমিধসে প্রাণহানি