Published : 12 Jul 2026, 09:16 AM
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগে কি আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে? লিওনেল মেসি এবং আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারদের বাহুতে কালো বন্ধনী পরার কারণ হলো, ফুটবল ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নিথর দেহ। এই শোকের প্রতীকটি আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আন্তোনিও রাতিনের স্মরণে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার তাঁর জীবনাবসান ঘটিয়েছেন। আজ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিরা সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার কিছুক্ষণ আগে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ফুটবলার রাতিন ১৫ বছরের পুরো সময় খেলেছেন বোকা জুনিয়র্সে এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ১০ বছর খেলেছেন। এই সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসচর্চায় তাঁর নাম বিশেষভাবে আলোচিত। বিশ্বকাপে লাল ও হলুদ কার্ডের সঙ্গে রাতিনের নাম জড়িয়ে আছে। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রাতিন খেলেছেন ১৯৬২ ও ১৯৬৬ আসরে।
বিশেষত ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত আলোচিত। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে একটি ফাউলের প্রতিবাদে রেফারি রাতিনকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ (সেন্ট অফ) দেন। সেই সময় রেফারিরা কার্ড ব্যবহার করতেন না, বরং মুখেই খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিতেন। শুরুতে মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান রাতিন। তিনি দাবি করেন, জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রেইটলেইন কী বলছিলেন তা বুঝতে পারেননি, কারণ রেফারি স্প্যানিশ ভাষা জানতেন না। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাতিন এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণা করে রাতিন নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি যখন মাঠের কোনায় পৌঁছালাম, তখন ইংল্যান্ডের পতাকাটি মুচড়ে দিই এবং তাদের গালি দিই। এরপর রানি যে গালিচা দিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতেন, সেটির ওপর গিয়ে প্রায় ৫ মিনিট বসে থাকি। লাল গালিচাটি সত্যিই খুব সুন্দর ছিল।
’ পরবর্তীকালে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় ও রেফারিদের মধ্যে ভাষার এই যোগাযোগ সমস্যা দূর করতে ফিফা উদ্যোগী হয়। ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান কেনেথ জর্জ অ্যাস্টন ট্রাফিক লাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৭ সালে ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ডের ধারণা নিয়ে আসেন। ১৯৭০ সালে এই কার্ড ব্যবস্থাটি বিশ্বকাপে চালু হয়। ওয়েম্বলিতে রাতিনের সেই প্রতিবাদী ঘটনাটি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফুটবলীয় শত্রুতার জন্ম দিয়েছিল, যা ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পায়। আজ এমন এক দিনে রাতিন বিদায় নিলেন, যখন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেমেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারলে শেষ চারে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে সেই ইংল্যান্ডই। আরও পড়ুনঝুলন্ত তারে লাগা বলে ইংল্যান্ডের গোল, ফিফা কী বলছে ১ ঘণ্টা আগে।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের ডাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর