Published : 14 Jul 2026, 05:13 AM
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার তারা সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়— এই অভিযোগ এনে তারা এই আক্রমণ করে। এই ঘটনা সৌদি আরব এবং ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিয়েছে। ইয়েমেনের সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, হুতি মিলিশিয়াদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরবের মাঝআকাশেই সফলভাবে প্রতিহত হয়েছে। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণের পার্বত্য অঞ্চলের প্রাদেশিক রাজধানী আবহার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এই সীমান্ত অঞ্চলে বহু সৌদি নাগরিক তীব্র গ্রীষ্মের তাপে থেকে বাঁচতে ভ্রমণ করেন।
২০২২ সালের মার্চ মাসে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার পর একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এরপরই প্রথম সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো হামলার দায় স্বীকার করল হুতিরা। সোমবারের এই সহিংসতা সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এর আগে, ইরান যুদ্ধের সময় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর সৌদির পূর্বাঞ্চল ও রিয়াদ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিছুটা কমে এসেছিল। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় সৌদি আরব বিশাল আয়তনের হওয়ায় যুদ্ধের মধ্যেও তারা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। তারা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে দেশের পূর্ব থেকে লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলের একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলেও যদি হুতিদের সঙ্গে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হয়, তবে এই তেল রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এর আগে, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুতি গোষ্ঠী অভিযোগ করেছিল যে সৌদি আরব ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছিল এবং তারা এর প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত ছিল। হুতিরা সোমবারের এই হামলাকে সম্পূর্ণ আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে যে এর মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।।
সরকারি কর্মীদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতার দ্বিগুণ হ্রাস, আর্থিক স্বস্তি মিলল