Published : 14 Jul 2026, 11:15 AM
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকায়, তেলের দাম এখন এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ দেশে এই দামের অস্থিরতা দেখা যায়। দুই দিনের বিরতির পর বাজার খুলতেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম লাফিয়ে ৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০২০ সালের মে মাসের পর তেলের দাম একদিনে এই পরিমাণ বৃদ্ধি দেখেনি। আজ আবারও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রেকর্ড আরও জোরদার হলো। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ১২টা ৫১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৮ ডলার বা ২ শতাংশ বেড়ে ৮৪.৯৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯.৭৯ ডলারে উন্নীত হয়।
এই সর্বোচ্চ দামটি আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর। তবে এই শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি বাতিল করে দেন, যা নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে যে জ্বালানি সরবরাহ আবারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই উদ্বেগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে এবং এই সরু জলপথেই দুই দেশের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথটি কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণমুখী পথে (ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা) ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে দুই দেশের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে এক ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হন। এর কিছুক্ষণ পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ওয়াশিংটন আবারও ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে এবং এই নিরাপত্তার খরচ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে আদায় করা উচিত।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো তেলের বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল এবং ইরানের পদক্ষেপ বাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদিও হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও উভয় পক্ষের অবস্থান জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াইজেসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে বন্দর আব্বাসে সাতটি এবং কিশ দ্বীপে আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই পরিস্থিতিতে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং দাবি করেছে যে সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। গ্যাবেলি ফান্ডসের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক সাইমন ওয়ং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে হুতিরা যদি লোহিত সাগরে সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়, তবে এই অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হবে।।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৭৬৬