Published : 19 Jul 2026, 05:14 PM
বন্যার ভয়াবহতার কারণে যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাগুলো স্থগিত করা হয়েছে, তা দ্রুত পুনরায় শুরু করার দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা এক জরুরি স্মারকলিপি পেশ করেছেন। আজ সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর কাছে এই আবেদন জানানো হয়। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কার্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল উপস্থিত হয়ে তাদের দাবি তুলে ধরে। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে দাবি করে যে বর্তমান রুটিন মেনে দ্রুত পরীক্ষা শুরু করা হোক এবং যে বিষয়গুলো স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য অন্তত দুই থেকে তিন দিনের বিরতি দিয়ে নতুন সময়সূচি অবিলম্বে ঘোষণা করা প্রয়োজন। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা চলমান থাকায় তাদের পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাকি পরীক্ষাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।
তাদের মূল দাবি হলো— বর্তমান রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া, স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর জন্য পর্যাপ্ত বিরতি দিয়ে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা এবং এই অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া। স্মারকলিপি গ্রহণ করার পর বোর্ড চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি জানান, বন্যা কবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ বিবেচনা করে মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৪টি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে যত দ্রুত সম্ভব নতুন সময়সূচি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের এই স্মারকলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথমে চলমান রুটিনের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরে স্থগিত বিষয়গুলোর জন্য আলাদা সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
প্রয়োজনে নতুন সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়াও সম্ভব। অন্য শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখার প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের প্রায় এক লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য দেশের বাকি প্রায় দশ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকার কোনোভাবেই ‘অটো পাস’ বিবেচনা করছে না; মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা নেওয়া অপরিহার্য। বোর্ড জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করে পরীক্ষা শুরু করা হবে।।
নাটোরে ৪০০ বক-শালিক শিকার ও হত্যার ঘটনায় বন বিভাগের তীব্র অভিযোগ