Published : 26 Jul 2026, 04:13 PM
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবি জানালেও, এই বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো আইনি ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি 'পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান' অনুষ্ঠানে অংশ নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন এবং সংবিধান মেনে স্পিকারের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যা স্পিকার গ্রহণ করেছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এনসিপি সহ অন্যান্য দলগুলো যদি অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে তার জন্য সরকারের কাছে কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) এবং বিশেষ অধিকার (প্রিভিলেজ) ভোগ করেছেন। এই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সেই সময়ের কার্যকলাপের জন্য ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্বকালের বাইরে যদি অন্য কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির কথোপকথন সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, যদি কোনো গণমাধ্যম এমন দাবি করে, তবে তাদের প্রমাণও দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আজকাল ইন্টারনেটের যুগে কারো সাথে কথা বলার জন্য লন্ডনে যেতে হয় না; এই তথ্যগুলো এখান থেকেই জানানো সম্ভব। দুদক ও ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সময় সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিচার হবে কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে সেই সময়ের কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন ও বিধি অনুসারে বিবেচিত হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সকল সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এসএসএফ, পিজিআর সহ ছয় মাসের নিরাপত্তা সুবিধার বিধান রয়েছে এবং পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কেন গ্রেপ্তারের দাবি করছে—এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর উত্তর তাদের কাছ থেকেই জানতে হবে।।
ব্রেক ফেল! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করল বাস, এক পথচারীর প্রাণহানি