Published : 20 Jul 2026, 08:16 AM
জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং পি কে হালদারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়েছে। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ সাক্ষ্য প্রদান করেন। তার জবানবন্দি গ্রহণের পর কারাগারে থাকা আসামি রাশেদুল হকের পক্ষে আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ তাকে জেরা করেন। তবে, অপর আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল বেপারী জেরা পেছাতে সময় আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে অবশিষ্ট জেরা এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যের জন্য আগামী ৯ আগস্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এর আগে মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল এবং আজ আরও একজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন কেবল তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য বাকি রয়েছে, যার মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সম্পূর্ণ হবে। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না, মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক বর্তমানে কারাগারে অবস্থান করছেন। এস আলম ও পি কে হালদারসহ বাকি অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি আদালত এস আলম ও পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল। অভিযোগ অনুসারে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন এবং ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তা বিতরণের অভিযোগ এনেছেন, যার অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তরিত হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে গত ১৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাদীর সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সেই দিন বাদী দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক সাক্ষ্য দেন। এরপর ২২ জুন ৫ জন এবং ৮ জুলাই আরও ৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। বর্তমানে অভিযোগপত্রের ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য সম্পন্ন হয়েছে।।
কর্মদক্ষতায় অসন্তুষ্ট হলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য