Published : 01 Aug 2026, 07:16 PM
সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র সূর্য নিয়ে মানুষের কৌতূহল চিরকালই অমলিন। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীরা একটি অদ্ভুত ধাঁধার সম্মুখীন ছিলেন। প্রায় চারশো ষাট কোটি বছর আগে একই সময়ে এবং একই ধরনের ধূলিকণা ও গ্যাস থেকে সূর্য এবং প্রাচীন উল্কাপিণ্ড গঠিত হয়েছিল। সমস্যাটি ছিল, প্রাচীন উল্কাপাতে যে পরিমাণ রূপা পাওয়া যায়, তা সূর্যের ওপর গবেষণার তথ্যের সঙ্গে মেলে না। অবশেষে একদল বিজ্ঞানী এই হারিয়ে যাওয়া রুপার উৎস খুঁজে বের করেছেন। 'অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস' নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে আমরা যা ধারণা করতাম, তার চেয়ে সূর্যের অভ্যন্তরে বাস্তবে অনেক বেশি রূপা বিদ্যমান।
যেহেতু সূর্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি ভর হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে গঠিত, তাই সেখানে রুপার পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই খুবই কম বলে মনে করা হতো। কিন্তু নতুন হিসাব অনুযায়ী, অতীতের গবেষণাগুলোর ফলাফলের চেয়ে অন্তত পঁচানব্বই শতাংশ বেশি রূপা সূর্য নামক নক্ষত্রটিতে রয়েছে। সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট সেমা কালিসকান ব্যাখ্যা করেছেন, 'আমাদের নতুন মডেলের সাহায্যে আমরা সূর্যের রুপার প্রাচুর্য নির্ধারণে ব্যবহৃত বর্ণালি রেখাগুলোকে আরও নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছি। আলো যখন সূর্যের বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আসে এবং প্রতিফলিত হয়, সেই আলোর বিশেষ রেখা বা বর্ণালি পর্যবেক্ষণ করে আমরা এই তথ্য পাই।' সুপারকম্পিউটারের মাধ্যমে থ্রিডি মডেলে রুপার পরমাণুর আচরণ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে অতীতের পরিমাপগুলোতে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। এই পঁচানব্বই শতাংশ বৃদ্ধির ফলে সূর্যের রুপার পরিমাণ এখন পৃথিবীতে পাওয়া সমসাময়িক উল্কাপিণ্ডগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
বিজ্ঞানী সেমা কালিসকান আরও বলেন, 'সূর্যের গঠন সম্পর্কে এই নতুন জ্ঞান অন্যান্য নক্ষত্র, গ্রহ এবং মহাজাগতিক উপাদানকে বোঝার জন্য অপরিহার্য। কারণ, সূর্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড। বিভিন্ন ধরন ও বয়সের নক্ষত্রের আলো পর্যবেক্ষণ করে আমরা বুঝতে পারব মহাবিশ্বের কোথায় রূপা সৃষ্টি হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে তা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।' সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট।
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: দড়ি ছিঁড়ে পর্যটকের মৃত্যু, অবৈধভাবে চলছিল খেলা