Published : 04 Aug 2026, 02:17 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে জ্বালানি জায়ান্ট কোম্পানিগুলো, যেমন শেভরন এবং এক্সনমোবিল, বর্তমান উচ্চ তেলের দামের সুযোগ নিয়ে 'অতিরিক্ত মুনাফা' অর্জন করছে। সোমবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট জানান, এই পরিস্থিতি তার একেবারেই পছন্দ নয়। ট্রাম্প দাবি করেন, এই কোম্পানিগুলোর উচিত তাদের বিপুল লাভের একটি অংশ সাধারণ জনগণের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া। বিশেষত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যখন আকাশ ছুঁয়েছে, ঠিক তখনই এই মন্তব্য আসে। ট্রাম্পের এই কঠোর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে, তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। এর আগে ট্রাম্প শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন, কারণ তিনি তেল শিল্পের উন্নয়নে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দূরদর্শিতা ও স্থিতিশীলতা ছাড়া তেল শিল্প এবং আমেরিকা আজ বিপদের মুখে থাকত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে ভেনেজুয়েলা থেকে শেভরনকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন তারা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে এবং মুনাফার আশা করছে। এক দশকেরও বেশি আগে যখন হুগো শ্যাভেজ তেল প্রকল্পগুলো জাতীয়করণ করার সময় এক্সনমোবিল ভেনেজুয়েলা ছেড়ে চলে গিয়েছিল, তখন শেভরন সেখানে অবস্থান করেছিল। অন্যদিকে, তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) বর্তমান তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোনো একক কোম্পানির দায় স্বীকার করে না। তারা মত দেন যে, বৈশ্বিক সরবরাহ-চাহিদা এবং হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সৃষ্ট অস্থিরতাই মূল কারণ। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি, যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্প আশা করেন যে, ইরান সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে এবং কোম্পানিগুলোকে খুচরা পর্যায়ে দাম কমাতে হবে। গত সপ্তাহের আয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে এক্সনমোবিল, শেভরন, ভ্যালেরো এনার্জি এবং ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলো বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। বিশেষত ভ্যালেরো ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের পর তাদের সর্বোচ্চ মুনাফা রেকর্ড করেছে এবং শেভরন গত ছয় বছরে সর্বোচ্চ আয় করেছে। ট্রাম্পের এই কৌশলটি হলো জনসমক্ষে চাপ সৃষ্টি করে কর্পোরেট আমেরিকার আচরণ পরিবর্তন করা, যা তিনি তার পূর্ববর্তী মেয়াদেরও অনুসরণ করেছেন।।