Published : 18 Aug 2026, 09:16 PM
সোনার অবৈধ প্রবেশপথের এক অভিনব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যেখানে সোনা লুকিয়ে রাখা হয়েছে বইয়ের পাতা, সাবান, কফি প্যাকেট কিংবা দরজার কবজার মতো দৈনন্দিন জিনিসের মধ্যে। এই পদ্ধতিতে কীভাবে দেশে সোনা আনা হয়, তার বিভিন্ন কৌশল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক উন্মোচিত হয়েছে। বিমানবন্দর দিয়ে নানা কৌশলে অবৈধভাবে সোনা প্রবেশের ঘটনা বারবার ধরা পড়েছে। এনবিআর এই প্রতিবেদনে সেই সমস্ত অভিনব পদ্ধতিগুলো সামনে এনেছে, যার মাধ্যমে দেশে সোনা চোরাচালান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এনবিআর আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে স্থাপিত অস্থায়ী জাদুঘরে এই চোরাচালানের বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করা হয়। সম্মেলনের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক জাদুঘর ঘুরে দেখেন। স্থলবন্দর দিয়ে উদ্ধার হওয়া দুর্লভ মূর্তিগুলোও সেখানে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৯ সালে হিলি কাস্টমস থেকে উদ্ধার হওয়া কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি ও পিতলের কালীমূর্তি। শুধু বর্তমান সময়ের নয়, দূর অতীতের চোরাচালানের কৌশলগুলোও এই জাদুঘরে তুলে ধরা হয়েছে।
যেমন, ১৯৬৭ সালে অক্সফোর্ড ব্র্যান্ডের উঁচু জুতার ভেতরে চোরাই পণ্য আনা হতো। ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমস আটক করেছিল বিশাল আকারের রেডিও—যা প্রমাণ করে সেই সময়ে প্রযুক্তিপণ্যও চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করত। চোরাচালান ছাড়াও এনবিআরের এই জাদুঘরে ঐতিহাসিক দলিলপত্রের অনুলিপিও সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬০১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রানি এলিজাবেথের দেওয়া বাণিজ্য অনুমোদন এবং ভারতে ব্যবসার জন্য ৪০০ বছর আগে প্রাপ্ত অনুমতিপত্র। এছাড়াও, ১৬১৫ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইংরেজদের দেওয়া অনুমতিপত্র এবং ১৯৫৫ সালে চট্টগ্রামে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে দেওয়া সনদও এখানে রাখা আছে। রাজস্ব সম্মেলনে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট এবং শুল্ক—প্রতিটি বিভাগের কার্যক্রমের জন্য আলাদা স্টল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিভাগগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রাজস্ব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই জাদুঘরের মাধ্যমে এনবিআরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।
রাজস্ব সম্মেলনে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেন, গত পাঁচ দশকে দেশের রাজস্ব প্রায় আড়াই হাজার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ১২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ২.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি। এই প্রবৃদ্ধির মন্থরতা কাটিয়ে এটি রাজস্ব আহরণে একটি সুস্পষ্ট পুনরুদ্ধার। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও এনবিআরের সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম এবং বিনিয়োগের পরিমাণ আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় কম। প্রতি ১০০ টাকার রাজস্ব আদায়ে এনবিআর মাত্র ২১ পয়সা খরচ করে। তিনি মনে করেন, রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যয়কে ‘ভালো বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখা উচিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জাদুঘর ও স্টল সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বিকেল পর্যন্ত উন্মুক্ত ছিল।।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লাইভ সম্প্রচার শুরু হবে ৫ মিনিট আগে: চিফ হুইপের ঘোষণা