Published : 19 Aug 2026, 10:16 PM
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকেল থেকেই এই সরবরাহ স্তব্ধ হয়ে যায়, যা দেশের চলমান গ্যাস সংকটের পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এলএনজির তীব্র ঘাটতির কারণে বিকেল ৩টার দিকে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই একটি অগ্নিকাণ্ডের পর এই টার্মিনালটি টানা পঁচিশ দিন বন্ধ থাকার পর মাত্র চার দিন আগে আংশিকভাবে চালু হয়েছিল। কিন্তু মজুদ কমে যাওয়ায় গত সোমবার থেকেই এটি ধীরে ধীরে সরবরাহ হ্রাস করছিল। আজ যখন মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়, তখন সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরপিজিসিএল (পেট্রোবাংলার অধীনে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড) এলএনজি আমদানির তদারকি করে। তারা জানায়, কম দামে এলএনজি পাওয়ার লক্ষ্যে চলতি মাসে চারটি কার্গো আসার কথা ছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলস্বরূপ, কাঁচামালের অভাবে প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও এক্সিলারেট টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে—এক্সিলারেট টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিট টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও তা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, এক্সিলারেট টার্মিনালের জন্য কাঁচামাল আসতে আরও ২৩ বা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যার ফলে আগামী কয়েকদিন এই টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কারণে মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে যে ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পৌঁছাত, বুধবার তা কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। বর্তমানে সারা দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ২,১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই মারাত্মক ঘাটতির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানাগুলিতে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লাইভ সম্প্রচার শুরু হবে ৫ মিনিট আগে: চিফ হুইপের ঘোষণা