Published : 23 Aug 2026, 08:16 PM
বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে কর্মরত ব্যক্তিদের শ্রমিকের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সংবিধানের আলোকে অসাংবিধানিক কিনা, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ (রুল) জারি করেছে। এই রুলের মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯)(খ) এবং ধারা ২(৬৫)-এর শর্তাবলী চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস. এম. ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই বিষয়ে আদেশ দেন। আদালত শ্রম সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব রিট আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন।
আইনের দৃষ্টিতে, ধারা ২(৪৯)(খ) অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বা নিয়োগকর্তার অন্তর্ভুক্ত ব্যবস্থাপক বা পরিচালন পদে থাকা ব্যক্তি শ্রমিক হিসেবে গণ্য হন। অন্যদিকে, ধারা ২(৬৫)-এর অধীনে 'শ্রমিক' বলতে মজুরি বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করা যেকোনো ব্যক্তিকে বোঝায়। প্রশ্ন উঠেছে, কেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের শ্রমিকের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে? আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, বিদ্যমান বিধানের কারণে এই ধরনের কর্মীরা শ্রম আইনের অধীনে প্রাপ্য আইনি সুরক্ষা, সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ এবং ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ থেকে ৮০ লক্ষ বেসরকারি খাতের কর্মী এই নিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা দেশের মোট কর্মশক্তির দশ শতাংশেরও বেশি। রিট আবেদনকারীরা জোর দিয়ে বলেন, এত বিপুল সংখ্যক নাগরিককে আইনি সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তারা আরও দাবি করেন যে সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৪৪ অনুচ্ছেদের আলোকে প্রতিটি নাগরিক আইনের সমান সুরক্ষা এবং আশ্রয় লাভের অধিকার ভোগ করেন। এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট শ্রেণির বেসরকারি কর্মজীবীদের শ্রম আদালতের এখতিয়ার থেকে দূরে রাখা হয়েছে, ফলে তাদের চাকরির সংক্রান্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো উপযুক্ত মঞ্চই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।।