Published : 26 Jan 2026, 03:07 PM
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা কেন্দ্রের সেমিনার কক্ষে ‘গাট স্বাস্থ্যের উপর কারকুমা বায়োকমফোর্টের প্রভাব’ শীর্ষক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল উন্মোচন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রোবায়োটিকের ইতিহাস, খাদ্য হিসেবে এর ব্যবহার, মানবদেহে এর কল্যাণ, এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিতরণের ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের আইনকানুন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অতিথিবৃন্দ। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসাইন উদ্দিন শেখর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, জাপান, আমেরিকা, ইউরোপসহ পুরো বিশ্বই এখন বিশেষ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ থাকার উপায় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ জেবা মাহমুদ শিশুদের পেটের সমস্যা সমাধানে প্রোবায়োটিকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ বলেন, উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়ে গবেষণা, উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণে এগিয়ে আসা উচিত। অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক অরুন কুমার মণ্ডল গবেষণার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “আজকের দ্রুতগতির জীবনযাত্রা, अनियमित খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। এর ফলস্বরূপ, অ্যাসিডিটি, বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রায় প্রতিটি পরিবারে দেখা যাচ্ছে।” ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রধান গবেষক মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ কে ওবায়দুল হক জানান, ‘কারকুমা বায়োকমফোর্ট’ প্রোবায়োটিক ব্যাসিলাস কোয়াগুল্যান্স এবং প্রিবায়োটিক ফুকটো-অলিগোস্যাকারাইডের সমন্বয়ে তৈরি।
এই প্রোবায়োটিকটি জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের আবিষ্কৃত, যা পাকস্থলীর অ্যাসিড দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকতে সক্ষম। ২০১৬ সালে ইউএসএফডিএ এটিকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য নিরাপদ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (ঢাবি), বিসিএসআইআর, বিএসটিআই, বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ফুড প্রফেশনালসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, গবেষক, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।।
জনসাধারণের সমর্থন না থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ