Published : 25 Feb 2026, 05:05 AM
ইরানের সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করার অধিকার রাখে, তবে কিছু অদৃশ্য রেখা অতিক্রম করা উচিত নয়। গত শনিবার ইরানজুড়ে নতুন করে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইরানের সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি প্রথমবার সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। ফাতেমা বলেন, ‘কিছু বিষয় স্পর্শকাতর, যেমন পবিত্র মূল্যবোধ ও জাতীয় পতাকা—এগুলো নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। আমরা জানি, অনেক কষ্ট ও ক্ষোভ তাদের ভেতরে জমা আছে, কিন্তু এই সীমাগুলো রক্ষা করতে হবে, এগুলো লঙ্ঘন করা যাবে না।’ সরকারের এই মুখপাত্র আরও জানান, ইরানের শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষত রয়েছে। তারা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছে যা তাদের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এই অনুভূতি স্বাভাবিক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শনিবার ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন সেমিস্টার শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই সরকারপন্থী ও সরকারবিরোধী উভয় ধরনের সমাবেশ দেখা যাচ্ছে। এসব সমাবেশে গত জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভের সেই পরিচিত স্লোগানগুলো আবারও শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, জানুয়ারির সেই বিক্ষোভ একসময় মারাত্মক রূপ নিয়েছিল এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। অর্থনৈতিক সংকট আর নানা প্রতিকূলতার কারণে গত ডিসেম্বরে ইরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি সেটি দেশজুড়ে বিশাল প্রতিবাদে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) জানিয়েছে, তারা ৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত করেছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও অনেক বেশি।
ইরানি কর্মকর্তারা ৩ হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, এই সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ রয়েছে। মোহাজেরানি গতকাল জানান, একটি বিশেষ দল বিক্ষোভের কারণগুলো খতিয়ে দেখছে এবং শীঘ্রই একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এদিকে, ইরানের বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার গতকাল মধ্যাঞ্চলীয় ইস্পাহান প্রদেশের একটি ফলের বাজারে বিধ্বস্ত হয়ে চারজন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় পাইলট, কো-পাইলট এবং দুই ব্যবসায়ী প্রাণ হারিয়েছেন।।
ব্যাংকিং খাতে চরম দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রতিবাদে আইনজীবীদের স্মারকলিপি