Published : 11 May 2026, 04:06 PM
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। পদোন্নতি নীতিমালা কার্যকর, শিক্ষক সংকট সমাধান ও উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষকরা কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন। সোমবার (১১ মে) সকাল থেকে শিক্ষকরা ক্লাস ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেন। এরপর তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও শিক্ষকদের সাথে সংহতি জানিয়ে নিজ নিজ বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেন, ফলে প্রশাসনিক কাজকর্মও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে ‘অস্বীকৃত’ ঘোষণা করেছেন। এর আগে, গত ২১ এপ্রিল শিক্ষকরা অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন।
বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্থতায় আলোচনার চেষ্টা করা হলেও, সেটি কোনো ফলপ্রসূ সমাধানে পৌঁছায়নি। সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক জানান, উপাচার্য শিক্ষকদের কোনো দাবি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি নতুন সংবিধি তৈরির কথা বলছেন, কিন্তু বর্তমানে যে নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয় চলছে এবং পূর্বে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ীই শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি পূরণে তিনি গড়িমসি করছেন। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাকে প্রশাসনিক কাজে কোনো সহযোগিতা করা হবে না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে থাকা শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন; ইতোমধ্যে তিনজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও, বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন রিমি বলেন, শিক্ষকরা উপাচার্যের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, কিন্তু ন্যায্য পদোন্নতির ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করছেন না।
যেখানে সহজ প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি হওয়ার কথা, সেখানে নানা অজুহাতে তা আটকে রাখা হচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেন, প্রয়োজনীয় সংবিধি প্রণয়ন না হওয়ায় শিক্ষকদের সব দাবি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাথে কথা বলেছেন এবং শিক্ষকদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করেছেন। তবে শিক্ষকরা আন্দোলনের পথ থেকে সরছেন না। তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব, কিন্তু চলমান আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।।
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, জানতে চান? হাইকোর্ট বললো, “এখন থেকে নয়!”