Published : 16 Mar 2026, 03:06 AM
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই পদক্ষেপ জনমতের বিরুদ্ধে এবং নবগঠিত বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যাশার विपरीत পথে চালিত হচ্ছে।’ বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার সুকৌশলে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’ এই সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন না ঘটিয়ে নিয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণের রায় ও ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই পদক্ষেপ সরকারের জন্য বিপরীত ফল বয়ে আনবে।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, গণহত্যায় জড়িতদের বিচার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে সেই আকাঙ্ক্ষার পথে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, এরপর জনগণের প্রত্যাশা ছিল স্থানীয় সরকারে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে। নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিল।
’ বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটি নৈতিকভাবে গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এই পদক্ষেপের ফলে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে এবং এটি আরেকটি কারচুপি নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ।’ মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দ্রুত জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।।