Published : 10 May 2026, 03:06 AM
ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশের দাবিতে শনিবার রাতে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা এক তাৎপর্যপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা কলেজের মূল ফটকের তালা ভেঙে দেয় এবং এক পদপ্রত্যাশীর লাগানো ব্যানার ছেঁড়ার চেষ্টা করে আগুন লাগাতে যায়। রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ থেকে বেরিয়ে এসে ‘ছাত্ররাজনীতির স্থান এই ইডেনে নেই’—এমন জোরালো স্লোগান দিতে থাকে। এর আগে সন্ধ্যায় ইডেন কলেজের ফটকে থাকা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখাটি কেউ রঙ দিয়ে মুছে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরপরই একদল শিক্ষার্থী প্রতিবাদস্বরূপ বিক্ষোভ শুরু করে। জানা যায়, হযরত রাবেয়া বসরী ছাত্রীনিবাসের ছাত্রীরাসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভে অংশ নেয়। প্রথমে তারা মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
এরপর বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্পাসের কয়েকটি ফটকের তালা ভাঙার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত মূল ফটকের তালা ভেঙে ফেলে। তারা কলেজের বাইরে লাগানো একটি ব্যানারে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যানারটি ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তৈয়বা ত্বাহার শুভেচ্ছা বার্তায় সজ্জিত ছিল। তবে তাদের এই আগুন লাগানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা কলেজের মূল ফটকে কালো রঙ দিয়ে ‘সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ইডেন ক্যাম্পাস’ কথাটি লিখে দেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
তাই তারা একটি ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানায়। ইডেন কলেজে এই বিক্ষোভের ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, “ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার।” নাছির উদ্দীন আরও উল্লেখ করেন, “অতীতে আমরা দেখেছি, গোপন সংগঠন শিবির তাদের কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। যারা এই বিশৃঙ্খলার নেতৃত্ব দিয়েছিল, পরবর্তীতে তারাই সেই গোপন সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিবির গোপন রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিকে কলুষিত করেছে।”।
ব্যাংকিং খাতে চরম দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রতিবাদে আইনজীবীদের স্মারকলিপি