Published : 24 May 2026, 10:27 AM
চট্টগ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায়, চার বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক হওয়া আসামিকে জনতা পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবু জাফর রোডে এই ঘটনা ঘটে। শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এসে পুলিশের গাড়ি ঘিরে অবরোধ করে, অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। রাত আটটা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে ফাঁকা গুলি চালায়, কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়নি। এই ঘটনায় দুইজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় একটি ডেকোরেশনের কর্মচারী। সে দোকানটিতে একটি চার বছর বয়সী কন্যাশিশুকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা করে। খবরটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় জনতা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে, কিন্তু থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়িটি ঘিরে ধরে। ভুক্তভোগী শিশুটির এক আত্মীয় জানান, তারা এই ঘৃণ্য অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান এবং তারা নিজেরাই এর বিচার করতে চান। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, পুলিশ ধর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য তারা বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলছেন এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে আইন অনুযায়ী বিচার হবে। এদিকে, এই ঘটনার সংবাদ কভার করতে গিয়ে চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ এবং নোবেল হাসান পুলিশের গুলিতে আহত হন। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মা জানান, লাইভ সম্প্রচারের সময় মামুন আবদুল্লাহর কোমর, এবং নোবেল হাসানের হাত ও পায়ে গুলি লাগে। তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।।