Published : 28 May 2026, 11:08 AM
সারা দেশের মতো চট্টগ্রামে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর্যের মধ্যে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় প্রধান জামাত। জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী এতে ইমামতি করেন। এরপর সকাল ৮টায় একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক ইমামতি করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সকলের সুস্থ জীবন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদের জামাতে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির নেতা সোলাইমান আলম শেঠসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার মূল বার্তা হলো ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা। কোরবানি কেবল পশু উৎসর্গ বা মাংস বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর গভীর তাৎপর্য হলো লোভ-লালসা পরিহার করে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সহানুভূতিশীল সমাজ নির্মাণ করা। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদুল আজহার চেতনাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ত্যাগের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, কোরবানি পশুর বর্জ্য দ্রুত সরানোর জন্য সিটি কর্পোরেশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বেলা ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হবে এবং আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো শহর পরিষ্কার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শাহাদাত হোসেন জানান, এই কাজে ৩ হাজার ২০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৩০০টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে।
এছাড়াও, ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য ৪১টি বিশেষ গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিবেশবান্ধব প্যাকেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সহজেই মাটিতে মিশে যায়। মেয়র নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, কোরবানি পশুর বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে অথবা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সরবরাহকৃত প্যাকেটে ভরে রাখতে হবে। এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের আরও ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লালদীঘি শাহি জামে মসজিদ, শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী ভিআইপি আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ।।