Published : 05 Jun 2026, 08:10 AM
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুর উপর সংঘটিত নৃশংস ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে। আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এই অভিযোগপত্র জমা দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগপত্রটি ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি, ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ডাক্তারি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার মামলাটি গত ২২ মে দায়ের করা হয়। ঈদের বিরতির কারণে এই অভিযোগপত্র জমা দিতে পাঁচ কর্মদিবসের সময় লেগেছে। আজ বিকেলে টিবিএসকে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মনির হোসেন।
যদিও তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে তিনি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকায় বসবাস করতেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা বালুরমাঠ এলাকার একটি গোডাউন ঘরে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বয়স এবং ধর্ষণের প্রমাণ নিশ্চিত করতে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। একই সাথে অভিযুক্ত এবং শিশুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। সংগৃহীত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডাক্তারি সনদ এবং ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গত ২১ মে পুলিশ মনির হোসেনকে হেফাজতে নেয়।
তাকে নিয়ে থানায় যাওয়ার পথে স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এই বাধা দেওয়ার ফলে স্থানীয়রা এবং পুলিশের সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ মনির হোসেনকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পুলিশের ওপর হামলা এবং পুলিশের যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে পুলিশ পৃথক মামলা দায়ের করেছে।।
সাতক্ষীরার সরকারি খাল দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, আহত ১৩ জন