Published : 05 Jun 2026, 10:13 AM
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অর্থনীতিবিদরা গভর্নরকে আসন্ন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদের হার (পলিসি রেট) বর্তমান ১০ শতাংশ থেকে হ্রাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন। চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে, তারা মনে করেন এই সময়ে নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা অপরিহার্য। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'মানিটরি পলিসি কনসাল্টেশন মিটিং'-এ এই বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে একাধিক অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার আলোচনা করেন। বৈঠকে আগামী ছয় মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রানীতি কেমন হবে, সে বিষয়ে গভর্নরের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়। অর্থনীতিবিদরা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, এবং এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতে নীতি সুদের হার কমানো সঠিক পদক্ষেপ হবে না। তারা পরামর্শ দেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নীতি সুদের হার স্থির রাখা উচিত। তারা আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ছে, তা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তাই এই মুহূর্তে নীতি সুদের হার কমানোর পরিবর্তে স্থিতিশীল রাখা জরুরি। বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদই এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমানকে নীতি সুদের হার কমানোর পরিবর্তে অপরিবর্তিত রাখার পরামর্শ দেন। তারা আরও জোর দেন যে, উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সহায়তা, বেসরকারি খাত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। এই প্যাকেজের অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কোভিডের সময় ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে নজরদারি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা। বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মুদ্রা নীতি এবং রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এই সমন্বয় না থাকলে নীতি সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর কোনো অর্থ হবে না। এছাড়া, বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে উচ্চ নীতি সুদের হার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের বৃদ্ধি এখনও যথেষ্ট কম।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সঠিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। ব্যাংকিং খাত অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় সেখানে জনগণের আস্থা ধরে রাখা অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন। গভর্নর জানিয়েছেন, ব্যাংকিং রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাত সংস্কার অব্যাহত রাখবে এবং সম্মিলিত ব্যাংকের জন্য চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ দেওয়া হয়। রেমিট্যান্স প্রবাহ সন্তোষজনক থাকলেও, বেসরকারি খাতে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়লে ডলার চাহিদা ও আমদানির পরিমাণ বাড়তে পারে, এবং রেমিট্যান্সের চিত্র সবসময় একরকম থাকবে না বলেও তারা মনে করেন।।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুভূত তীব্র কম্পন, রাজধানীসহ এলাকা কাঁপল