Published : 12 Jun 2026, 09:26 AM
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে ইতি রানী এবং তাঁর দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীর্ঘ সাত দিন পর পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মামলাটি দায়ের করেন নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায় পরিবারটি নানা বাধা ও বিলম্বের সম্মুখীন হয়। পুলিশ প্রথমে মামলাটি নিহত ইতি রানীর মায়ের নামে করার পরামর্শ দেয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মামলা করতে গিয়ে তারা বারবার বাধা পান।
পরবর্তীতে গত সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদনের পরেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না থাকায় আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, 'গত রাতে থানায় মামলা করা হয়েছে। আগে থানায় গিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমাকে বাদ দিয়ে আমার শাশুড়ীকে বাদী করার পরামর্শ দেয়। এরপর আদালতে আবেদন করলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় আদালত তা গ্রহণ করেনি।' তিনি আরও বলেন, 'শুরু থেকেই এই মৃত্যুকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে আখ্যা দিচ্ছে। আমি এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে ভয়ে আছি।' গত বুধবার বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি ঘর থেকে ইতি রানী (৩৪) এবং তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইতি রানী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পাঁচ দিন পরেও মামলা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরিবার চরম বিড়ম্বনায় রয়েছে। গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে এই ঘটনার পর বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, সুরতহাল এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই এমন মন্তব্য করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তারা জোর দিয়ে দাবি করেছেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।।