Published : 22 Jun 2026, 09:14 AM
স্পেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হোসে লুই রদ্রিগেজ জাপাতেরো এখন এক নতুন তদন্তের মুখে। তাঁর দপ্তরে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান অলংকার উদ্ধার হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। পূর্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল, যা এখন আরও গভীর তদন্তের আওতায় এসেছে। জাপাতেরো সমাজতন্ত্রী দলের একজন প্রভাবশালী নেতা এবং ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও তাঁর দল এখনও ক্ষমতায় রয়েছে এবং তিনি দলের মধ্যে প্রভাবশালী অবস্থানে আছেন, তবুও এই নতুন তদন্ত তাঁর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করছে। ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইল আউট) প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই আর্থিক সহায়তা প্রদানে তিনি প্রভাব খাটিয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে কর্তৃপক্ষ তাঁর দপ্তরে অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে প্রায় ১২ লক্ষ ইউরোর সোনা, নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে তৈরি নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল উদ্ধার করা হয়। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অলংকারগুলোর উৎস জাম্বিয়া বা থাইল্যান্ড। জাপাতেরোর মুখপাত্র লুই আরোয়ো জানিয়েছেন যে, এই অলংকারগুলো সম্পর্কে তিনি বিচারকের সামনে ব্যাখ্যা দেবেন। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন যে, এই উদ্ধার হওয়া অলংকারগুলোর ওপর শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং চোরাচালানের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এএফপি সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীরা সেই সময় এই মূল্যবান সামগ্রীগুলো পারিবারিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছিলেন। চলতি মাসের শেষের দিকে জাপাতেরোকে আদালতে তলব করা হয়েছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। অতীতে স্পেনের আরও কিছু প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় তলব করা হয়েছিল, তবে এটি দেশটির ইতিহাসে প্রথম কোনো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলো।
প্লাস আলট্রা মামলায় অভিযোগ ছিল যে, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫ কোটি ৩০ লক্ষ ইউরোর সরকারি বেইল আউট নিশ্চিত করতে নিজের প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন গ্রহণ করেছিলেন। যদিও জাপাতেরো সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি প্লাস আলট্রা থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এই বেইল আউট অনুমোদন করা হয়েছিল। এই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ গত মাসে মাদ্রিদে সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সদর দপ্তর এবং কিছু শীর্ষ নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি জব্দ করে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী ও ভাইসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও তারা সবাই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।।
জনসাধারণের সমর্থন না থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ