Published : 06 Jul 2026, 03:29 AM
শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আট দিনের এক আনন্দময় উৎসবের আয়োজন করেছে ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়। গতকাল বুধবার থেকে এই উৎসব শুরু হয়, যেখানে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সৃজনশীলতার উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় এই উৎসবের সূচনা হয়। এই উৎসবটি দেশের আধুনিক চিত্রশিল্প, বিশেষত ছাপচিত্রের পথিকৃৎ শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের স্মরণে আয়োজিত। তিনি ১৯২২ সালের ২৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন এবং কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে এচিং ও এনগ্রেভিং বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে ঢাকায় এসে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে ঢাকা আর্ট কলেজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিল্পগুরুর মাধ্যমেই দেশে ছাপচিত্রকলার যে বিকাশ ঘটেছে, তা অনেক বিদগ্ধজনের কাছে প্রশংসিত। ২০১২ সালের ২০ মে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
শিল্পগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ সাল থেকে সফিউদ্দীন শিল্পালয় শিশুদের নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায় এবারও শিল্পকলা প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবে দুটি প্রতিষ্ঠান—ধানমন্ডির মারী-কুরী স্কুল এবং মিরপুরের বেইট আলফা অটিস্টিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোরী তাদের অংশগ্রহণে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শিশুরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোক’ ও ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে’ গানগুলো পরিবেশন করে এবং সমবেত নৃত্যের মাধ্যমে পরিবেশনা করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘জয় হোক শান্তির’ গানটিও পরিবেশিত হয়। শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুদের এই উৎসব এবং তাদের জন্য আয়োজিত কর্মশালা ও প্রদর্শনী তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বেইট আলফার প্রায় ৩০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এই উৎসবে অংশ নেয় এবং তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। মিরপুর থেকে সাফিয়া ইসলাম তার মা তারা বেগম এবং ফারিয়া ইসলাম তার মা পারভিন আক্তারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সকলেই অত্যন্ত আনন্দিত।
শিল্পালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী আহমেদ নাজির ও সফিউদ্দীন আহমেদের পুত্র বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্পপ্রেম ও সৃজনশীলতা জাগিয়ে তোলার জন্য এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা ছবি আঁকা, ছাপচিত্র তৈরি, কাগজ কেটে মুখোশ বানানো এবং মৃৎশিল্প তৈরির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। একই সাথে তাদের তৈরি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য এই কর্মশালা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হয়। শিল্পগুরুর জন্মদিনের বিকেলে শিশুদের জন্য কেক কাটা হবে এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। উৎসবের অংশ হিসেবে প্রদর্শনী ও কর্মশালাগুলো ২৪ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।।