Published : 15 Jul 2026, 10:13 PM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে কোনো সুযোগ দেবে না। এই বক্তব্য তিনি জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রদান করেন। তিনি এই প্রসঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা নির্মূলে সরকার বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা পাবে বলে তিনি আশাবাদী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদার বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উগ্রবাদ দমনের জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ করলেও একইসঙ্গে অনেক বিষয়ে একমত।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই সরকার উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেবে না এবং এই লক্ষ্যে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ। সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশের ছিল যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জন্য ন্যায়পরায়ণতা ও সমতার প্রতিষ্ঠা থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কেউ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেবে না এবং সেই বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদের কোনো স্থান থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে এই বিষয়গুলো যথাযথভাবে সমাধান করা রাষ্ট্র ও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
সম্প্রতি দেশে উগ্রবাদ দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তারের তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে। এছাড়াও, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, অনলাইন প্রচারণা পর্যবেক্ষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণাও অব্যাহত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী আবারও স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।।
বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত: ২৬ দিনের আলোচনায় ১০টি সরকারি বিল অনুমোদিত