Published : 26 Jul 2026, 01:27 AM
সরকার দেশের অর্থনীতিকে একটি বিনিয়োগনির্ভর ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরিত করতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য অর্থ পাচার বন্ধ করা অপরিহার্য। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ষোলো বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই অবৈধ প্রবাহ বন্ধ হলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং পুঁজি অলসভাবে আটকে থাকবে না। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (ডায়রা)-এর আয়োজিত বেঙ্গল কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশী উদীয়মান শিল্পগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য মানবসম্পদ বা হিউম্যান ক্যাপিটাল তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো একই ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও আমাদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীলতা প্রদর্শন করছে। সরকার দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষা ও উৎপাদন খাতকে সরাসরি সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা শিল্পের দায়িত্ব।
জ্বালানি সংকটের সমাধানে সরকার ‘আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি’ গ্রহণ করেছে, যা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই নীতির অধীনে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে এবং ইতিমধ্যেই পাঁচটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দশ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস (যেমন সৌরশক্তি) থেকে আসবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সৌর প্রকল্পের জন্য জমি, ঋণ এবং কর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর। ২ দিনের মধ্যে লাইসেন্স প্রদান এবং ৭ দিনের মধ্যে ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। এছাড়াও গার্মেন্টস, লজিস্টিকস ও চামড়ার পাশাপাশি আইসিটি, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সহ আরও ৮-১০টি নতুন বিনিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেন, উৎপাদনশীলতাকে অর্থনীতির মূল বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকারকে এই দিকটি গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, বর্তমান নীতিমালার ঘাটতি রয়েছে এবং সমগ্র ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। উদ্যোক্তাদের সামনে নীতিগত বাধা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসি-র পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, নীতিগত প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্যোক্তারা প্রেরণা পান না। নিউএজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম উল্লেখ করেন যে একটি ব্যবসা শুরু করতে ৫০টি সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। তিনি মনে করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ মসৃণ করতে সরকারকে এই সংকটগুলো সমাধান করতে হবে। কৃষি কোম্পানি আইফারমারের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মাকামে মাহমুদ জানান, উদ্যোক্তারা ব্যবসা-বাণিজ্যে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান অনেক বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে প্রেরণা হারান এবং লালফিতার দৌরাত্ম্যে তাদের সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ কমে যায়।।
ধানমন্ডির পরিত্যক্ত সুধা সদন থেকে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার: মাদকাসক্তির শিকার কি এই যুবক?