Published : 14 Aug 2026, 05:16 PM
কে আশা করেছিল যে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউডের হতাশা বাংলাদেশ বোলারদের ওপর এমন প্রভাব ফেলবে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন এই ঘটনাটি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন স্টার্ক মেজাজ হারিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বাদানুবাদ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকে মধ্যস্থতা করতে হয়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন স্টার্কের একুশতম ওভারের (অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ১০৩তম বল) পঞ্চম বলে ছোটেন মিরাজ রান নেন। নিয়ম অনুযায়ী, দৌড়ানোর সময় ব্যাটসম্যানদের অবশ্যই পিচের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে চলতে হয়। মিরাজ দৌড় শুরুর সময় স্টার্কের দিকে তাকালেও পরে দৃষ্টি সরিয়ে বলের দিকে দেন এবং যখন আবার সামনে তাকান, তখন প্রায় মুখোমুখি হয়ে যান। তিনি ঘুরে না গিয়ে পিচের মাঝখান দিয়ে ছুটে যান, যা আম্পায়ার ধর্মসেনার নজর এড়িয়ে যায় না।
রান শেষ হওয়ার আগেই ধর্মসেনা সরাসরি মিরাজের কাছে গিয়ে সুরক্ষিত এলাকা দিয়ে দৌড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা করেন যে বল দেখতে গিয়ে তিনি সামনে কী আছে তা বুঝতে পারেননি। এই ঘটনার জের ধরে পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্টার্ক মিরাজের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি তাঁর ফলো-থ্রুর জায়গা, মিরাজকে উইকেট ছেড়ে দিতে হবে। জবাবে মিরাজ জানান যে বল দেখার কারণে তিনি সামনে কিছু দেখতে পাননি। নিজের অবস্থানে ফেরার পথে স্টার্কের মুখে আরও একটি মন্তব্য শোনা যায়— ‘তুমি কিন্তু আর বাংলাদেশে নেই এখন, বুঝেছ?’ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং মিরাজের পক্ষেই কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না—বল দেখার পর তাকানোর সময় স্টার্ককে সামনে পেয়ে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়ে যাওয়াই সহজ মনে করেছিলেন।
ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকলসনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাঠে দীর্ঘ ও কঠিন দিন পার করা অস্ট্রেলিয়ার হতাশারই প্রতিফলন এই ঘটনাটি। স্টার্কের বিরক্তির কারণ স্পষ্ট। নতুন বলে তিনটি উইকেট নেওয়ার পর দিনের শেষভাগে মিরাজ এবং হাসান মাহমুদ অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করে দেন। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দারুণ অবস্থানে রয়েছে—৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ১৫৩ রানের লিড নিয়েছে সফরকারীরা, হাতে আরও চারটি উইকেট। মিরাজ অপরাজিত ৩২ রানে এবং হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।।
কারিগরি ত্রুটির জেরে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ ফের স্তব্ধ