Published : 15 Aug 2026, 01:16 AM
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর ১৪ নম্বর আশ্রয়শিবিরের এক শান্ত পরিবেশে হঠাৎ নেমে আসে চরম উত্তেজনা। শুক্রবার দুপুরে আশ্রয়শিবিরের সি-২ ব্লকের একটি মসজিদের সামনে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ওবাইদুল হক (৩০) নামে এক ব্যক্তির উপর গুলি চালানো হয়। জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এই নৃশংস হামলা হয় বলে পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য। গুলিটি তাঁর ডান গোড়ালিতে আঘাত করে। জানা গেছে, ওবাইদুল পালংখালী ইউনিয়নের চোরখোলা গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র। তাঁকে প্রথমে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যায় তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা ও স্থানীয়দের সূত্রে খবর, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল অর্থ লেনদেন এবং পূর্বশত্রুতার জটিলতা। রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ওবাইদুলের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনুস নিজেকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরএসও) ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসে এবং তার নির্দেশে ১০ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে একজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, যা ওবাইদুলের ডান পায়ের গোড়ালিতে লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি চালানোর পর সশস্ত্র ব্যক্তিরা জঙ্গলের দিকে চলে যায়। ওবাইদুলের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় আমার ভাইকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। আমরা এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
’ উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কেন ওই বাংলাদেশি নাগরিককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো এবং তিনি কেন মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে ঘটনার পর আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আশ্রয়শিবিরে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলির উৎস খুঁজে বের করতে আরও কঠোর অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।।