Published : 15 Aug 2026, 08:16 AM
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যকে 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন' বলে উপহাস করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রচারিত ইসরায়েলি পডকাস্ট 'মেলেচ ব্লিটজার হাইম'-এ তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেন। ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র এই দেশের সংবাদমাধ্যমকে কটাক্ষ করে নেতানিয়াহু এমন মন্তব্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ব্রিটিশ লেখক র্যান্ডলফ চার্চিলের প্রশংসা করেন, যিনি ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন লিখেছিলেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যঙ্গাত্মক সুরে নেতানিয়াহু বলেন, 'আজকের ব্রিটেনে এমন কিছু খুঁজে দেখুন, যার কারণে ব্রিটেনকে 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন' বলা যেতে পারে।' পডকাস্টের পরবর্তী অংশে তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ভ্যান্স মন্তব্য করেছিলেন যে যুক্তরাজ্য হয়তো পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম 'ইসলামপন্থি দেশ' হতে পারে।
নেতানিয়াহু এই প্রসঙ্গে বলেন, 'কেউ একজন বলেছিলেন যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হবে 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ব্রিটেন'। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায় এই মন্তব্যকে বিদ্বেষপূর্ণ ও বিভেদ সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়। 'মুভমেন্ট ফর প্রোগ্রেসিভ জুডাইজম'-এর দুই সহ-প্রধান রাবাই এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, 'যখন ইহুদিবিদ্বেষ, মুসলিমবিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভাজন আমাদের দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, তখন এই ধরনের ভাষা ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।' তারা স্পষ্ট করে দেন যে, 'প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তার বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নয়।' সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে প্রকাশ্য ইসলামোফোবিয়া বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, 'আশা করি, কিছু মানুষ এখনো এই লোকটিকে ব্রিটেনের মিত্র মনে করে—এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
' ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে ব্রিটেনে প্রগতিশীল লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল সরকারের মধ্যে তিক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক রদওয়ান আবুহার্ব বলেন, 'নেতানিয়াহুর এই খোঁচা যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্কের অবনতির একটি ধাপ। তবে এই বাগযুদ্ধের পরেও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের নীতিগত লক্ষ্যের মধ্যে বেশ মিল রয়েছে।' আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবুহার্ব আরও যোগ করেন, 'নিজের নড়বড়ে শাসক জোটকে ধরে রাখতে নেতানিয়াহু মূলত তার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থেই এই মন্তব্য করে থাকতে পারেন।'।
এক্সিলারেট টার্মিনাল আংশিক চালু; জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি, ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট