Published : 17 Aug 2026, 10:16 PM
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-কে ভেঙে দিয়ে পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)' গঠনের জন্য আইনের খসড়াটি সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এই নতুন কাঠামোতে র্যাবের বর্তমান সকল জনবল, ক্ষমতা, সম্পদ, তহবিল এবং রেকর্ড নতুন ইউনিটের কাছে স্থানান্তরিত হবে। তবে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। এসআরবি-র কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বা নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম দেবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬'-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই আইনের মাধ্যমে র্যাবের স্থান নেবে নতুন এসআরবি ইউনিট এবং বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বহাল রাখা হয়েছে। এই সংস্কারের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত প্রেক্ষাপট। ২০০৪ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে র্যাব সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, পরবর্তীতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসে। এই কারণে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক র্যাব এবং কিছু কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত ও সংস্কারের দাবি ওঠে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিবেদনেও র্যাবকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও এই বিলুপ্তি ও সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। র্যাব সংক্রান্ত এই ব্যাপক সংস্কার নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তৎকালীন মহাপরিচালকও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাঠামোতে স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মানদণ্ড আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।।
মানদণ্ড অমানত করায় আরামকোরের এলএনজি চালান প্রত্যাখ্যান করল পেট্রোবাংলা, বিকল্প কার্গোর ব্যবস্থা